Headline
তানিয়া আফরিন পেলেন আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘সাউথ এশিয়ান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও নারী-শিশু নির্যাতন বিরোধী আলোচনা সভা অদম্য নারী পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এম মুরশিদ উপস্থিত ছিলেন। BAMGLADESHI AMERICAN COMMUNITY CHANGEMAKERS দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করতে একমত ড. ইউনূস ও শাহবাজ শরিফ ইউনূস-বাইডেন বৈঠক নিয়ে যা বলেছে হোয়াইট হাউস ‘রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের বিমানবন্দরে ভিআইপি সার্ভিস দেব’ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা জরুরি : ড. যশোদা জীবন দেবনাথ মাহবুব সিরাজ তুহিন সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় বাঙালি ছাত্র ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের অভিভাবক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য সুশাসন, শিক্ষার প্রসার ও প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে : প্রীতি চক্রবর্তী

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা জরুরি : ড. যশোদা জীবন দেবনাথ

Reporter Name / ৩৮ Time View
Update : রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫
Joshoda Jibon Debnath

ড. যশোদা জীবন দেবনাথ এ সময়ের এক মেধাবী ও সৃজনশীল মানুষের নাম। মানবকল্যাণে নিবেদিত এই ব্যক্তিত্ব ইতোমধ্যেই ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। ব্যাংকিং খাতের আধুনিকায়নে উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব ড. যশোদা জীবন দেবনাথ টেকনোমিডিয়া লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। টেকনোমিডিয়া লিমিটেড দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এটিএম সিস্টেম স্থাপন করে এই খাতকে অনন্য এক মাত্রায় তুলে এনেছে। ড. যশোদা জীবন দেবনাথ বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ও বেঙ্গল ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালক। উদ্যমী এই ব্যক্তিত্ব পাম্পাস রেস্টুরেন্ট বিডি লিমিটেডের পরিচালক এবং বিনিময় সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর পরিচালক, বিসিসিআই কমনওয়েলথ’র ইনডিপেন্ডেন্ট স্টেট-এর পরিচালক, ভারত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং দৈনিক ভোরের সময়-এর উপদেষ্টা সম্পাদক। ড. যশোদা জীবন দেবনাথ বিচক্ষণ ও রাজনীতি সচেতন। তিনি নিজ এলাকা ফরিদপুরের উন্নয়নেও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তিনি শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেডের পরিচালক এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি প্রটেকশন ওয়ান প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের নির্বাহী সদস্য। ড. যশোদা জীবন দেবনাথ টেকনো কনফিডেন্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, মানি প্ল্যান্ট লিংক প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী।
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ শিক্ষা জীবনে প্রখর মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাংকিং অ্যান্ড ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন এবং ডক্টর অব ফিলোসফি অর্জন করেন। তিনি একজন মানবপ্রেমী। তিনি দেশের উন্নয়নে নিজ অবস্থান থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি নিজ এলাকার অসচ্ছল ও অসহায় মানুষের বন্ধু হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। একজন লেখক ও গবেষক হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার। জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার লেখা প্রবন্ধ ও নিবন্ধ গুরুত্বসহকারে ছাপা হয়।
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ সম্প্রতি অর্থকণ্ঠকে একটি সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন; এখানে তা উপস্থাপন করা হলো-

Joshoda Jibon Debnath bag

অর্থকণ্ঠ : স্বাধীনতার ৫৩ বছরে বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়েছে- আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাইছি।
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ : এদেশের জন্ম হয়েছে রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। বাঙালির অবিসংবাদিত মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। যাঁর যা কিছুু ছিল তা নিয়েই তাঁরা যুদ্ধ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর দেশকে শত্রুমুক্ত করেছেন। স্বাধীনতার জন্যে ৩০ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছেন, দু’লক্ষাধিক মা-বোনকে সম্ভ্রম বিসর্জন দিতে হয়েছে। আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ অর্জন করেছি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম, শোষণমুক্ত ও ধর্মনিরপেক্ষ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
স্বাধীনতার ৫৩ বছরে আমরা হয়তো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি, তবে বাংলাদেশ এখন বিশ্ববুকে গৌরবময় রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে। স্বাধীনতার আগে দেশে অসচ্ছল ও হতদরিদ্রের হার ছিল ৮০ শতাংশের উপরে, এখন তা ২৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। শিক্ষার হার ছিল ১৭% এখন তা ৭৮% এর উপরে, গড় আয়ু ছিল ৪২ বছর এখন তা ৭৪ বছরের উপরে, মাথাপিছু আয় ছিল ১২৯ ইউএস ডলার এখন তা ২৫০০ ডলারেরও বেশি। ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ২৯৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার, ২০২০ সালে তা ৪৩ বিলিয়ন ডলারের উপরে এবং আমদানির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার। ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৭৫৭৫ কোটি টাকা, এখন এর পরিমাণ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্স ২১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। স্বাধীনতার পর দেশে ছোট-বড় অসংখ্য শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। ১৯৭৩ সালে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫৩, বর্তমানে তা ২৫-এর নিচে নেমে এসেছে। মাতৃমৃত্যুর হার ১৯৯৯ সালে ছিল ৪.৭৮ শতাংশ, এখন তা ১.৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল স্থাপনা নির্মাণের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের একটি রাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে অনেক দেশের মানুষ অবাক হয়েছে। যে আমেরিকানরা বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র দেশ বলে তাচ্ছিল্য করেছিল সেই দেশেরই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অন্যান্য অনুন্নত রাষ্ট্রকে উন্নয়নের জন্যে বাংলাদেশকে অনুসরণ ও অনুকরণের কথা বলেছেন। এটি আমাদের জন্যে সত্যিই গর্বের বিষয়।

আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি, বাংলাদেশের কোনো মানুষ এখন ক্ষুধার কারণে মৃত্যুবরণ করে না। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির একটি দেশে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। আশা করা যায়, ২০৪০ সালের মধ্যে এটি মধ্যম আয়ের অবস্থান অতিক্রম করে উন্নত দেশে পরিণত হতে সক্ষম হবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি টেকনোমিডিয়া লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে আপনার এই প্রতিষ্ঠান কতটুকু ভূমিকা রাখছে?
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ : বাংলাদেশ উন্নত দেশের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলা একটি রাষ্ট্র। এটি সম্ভব হচ্ছে উন্নত মানের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুবাদে। আমি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করেছি টেকনো মিডিয়া লিমিটেড। এটি আইসিটি বিষয়ক সমস্যা সমাধানের পথ প্রদর্শক। এটি একটি ব্যাপক ব্যাংকিং সলিউশন কোম্পানি। এই কোম্পানি ব্যাংকের এনকোডেড চেক প্রসেসিং, এটিএম পরিষেবা, পেমেন্টের মতো অগণিত ব্যাংকিং পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সিস্টেম সলিউশন, ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড ম্যানেজমেন্ট এবং ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা লেনদেন সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদান করছে টেকনোমিডিয়া লিমিটেড। ব্যাংকিং খাতের এই ডিজিটালাইজেশনের ফলে দেশের উন্নয়ন দ্রুততর হবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থকণ্ঠ : ব্যাংকিং খাতের ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে টেকনোমিডিয়া লিমিটেড কতটুকু ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে?
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ : এক্ষেত্রে আমাদের অবদান অনেক। দেশে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। এর মধ্যে টেকনোমিডিয়ার বসানো মোট এটিএম বুথের সংখ্যা ৫ হাজারের মতো। আগেই বলেছি, আমরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সংকল্পবদ্ধ। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পশ্চাদপদ রেখে দেশকে উন্নত করা যায় না। সেই কাজটিই আমরা করছি।
অর্থকণ্ঠ : অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) আমদানি করতে হয় এবং এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়ে যায়- আপনার চিন্তাভাবনা কি?
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ : আপনি ঠিকই বলেছেন। এগুলো আমদানি করতে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়ে যায়। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা টেকনোমিডিয়ার পক্ষ থেকে ঢাকার অদূরে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে এটিএম মেশিন অ্যাসেম্বলিং প্ল্যান্ট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। তা ছাড়া বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ জন্যে আমরা সরকারের নীতি সহায়তা চাই।


অর্থকণ্ঠ : আপনি মূলত একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। আপনার এলাকার উন্নয়নে কি কি উদ্যোগ নিচ্ছেন?
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ : আমি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। আমার এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, তৃণমূল মানুষদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছি। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং জীবন মান উন্নয়নেও কাজ করছি। আমি এলাকায় দুটি ঈদ এবং পূজায় দরিদ্র মানুষদের ঈদ সামগ্রী, পূজার সামগ্রী, শীতে শীতবস্ত্র প্রদান করি। করোনা দুর্যোগ চলাকালে মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়েছি।
এছাড়া পুলিশের কল্যাণে ফরিদপুর জেলা পুলিশকে ৫০ শতাংশ জায়গা লিখে দিয়েছি। তাদের ব্যবহারের জন্যে ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যান দিয়েছি। এলাকার মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ করে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বই, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করে থাকি। এছাড়া এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য নিজ উদ্যোগে রাস্তা মেরামত, সাঁকো, পুল ও মাটির রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছি। স্থানীয় পর্যায়ে স্কুল, মাদ্রাসা নির্মাণ এবং অসচ্ছল ছাত্রদের এককালীন অর্র্থ দিয়ে থাকি।


অর্থকণ্ঠ : সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং সামাজিক বৈষম্য অনেক বেড়েছে । দুর্নীতি প্রতিরোধে আপনার প্রস্তাবনা কি?
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ : উন্নয়নশীল একটি দেশে দুর্নীতির অনেক সুযোগ থাকে। বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এক্ষেত্রে আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, দেশ যত ডিজিটালাইজড হবে, দুর্নীতিও কমে আসবে। সব জায়গায় ঘুস ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
অর্থকণ্ঠ : আপনি একজন বিশিষ্ট ব্যাংক উদ্যোক্তা এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ : ব্যাংকিং ব্যবস্থা হচ্ছে দেশের অর্থনীতির প্রাণ। প্রাণ যদি সচল থাকে তবে সবকিছুই গতিময় হয়। যে কোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্যে আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা জরুরি।
কয়েক বছর আগে হরতাল-আন্দোলনে দেশ স্থবির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ব্যাংকিং ব্যবস্থা আধুনিক হওয়ায় অর্থনীতি স্থবির হয়নি। এখন ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে ব্যাংকে যেতে হয় না। এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা যায়। মাইকার চেক হওয়ায় ঢাকার অ্যাকাউন্টের টাকা দিনাজপুরের শাখা থেকে তোলা যায়। পণ্য কেনার জন্যে বাজারে টাকা নেয়ার প্রয়োজন হয় না।
এভাবেই দেশের অর্থনীতি অনেক সচল থাকে। একই সাথে আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দুর্নীতি, অনিয়ম বন্ধ করা যায় এবং সময়ের অপচয় রোধ হয়।


অর্থকণ্ঠ : আমরা জেনেছি, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনাদের পরিবার যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সে সময়ের কোনো স্মৃতি?
ড. যশোদা জীবন দেবনাথ : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ফরিদপুরে আমাদের এলাকার স্বাধীনতাবিরোধী কয়েকটি চক্র আমার পিতামহসহ পরিবারের সাতজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমাদের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আমার বাবা-মা আমাদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ সাত দিন পায়ে হেঁটে ভারতের নদীয়াতে যান এবং আমরা সেখানে শরণার্থী শিবিরে নয় মাস কাটিয়েছিলাম। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে অনেক কষ্টে পোড়া ঘরবাড়ি মেরামত করে বাসযোগ্য অবস্থায় আনতে পেরেছি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এনামুল হক এনাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category