• শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
Headline
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫ম গ্লোবাল বিজনেস সামিট ২০২৬ দেশের বিউটি ও লাইফস্টাইল শিল্পে এক সংগ্রামী নারীর গল্পগাথা -তাসলিমা চৌধুরী কনা আলম সাকিফ শামীম – ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএফবি গ্রুপকে সুগন্ধি ও ওডোর নিউট্রালাইজিং প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেখতে চাই -গোলাম ফারুক ভূঁইয়া বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি ঢাকার নতুন কমিটি গঠন মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে বিজিএমইএ এর নতুন পরিচালনা পর্ষদ বিজিএমইএ এর দায়িত্ব গ্রহন করেছেন টেকসই উন্নয়ন অর্জনে শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, গবেষণা ও নীতি প্রণয়ন জরুরি -অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন ডা. সিনথিয়া আলম ত্বকচর্চার নতুন দিগন্তের পথপ্রদর্শক কানাডায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করছি -আরিফুর রহমান, P.Eng. ৩৯তম ফোবানা সম্মেলনের প্রচারে নিউইয়র্ক সফরে হোস্ট কমিটি

দেশের বিউটি ও লাইফস্টাইল শিল্পে এক সংগ্রামী নারীর গল্পগাথা -তাসলিমা চৌধুরী কনা আলম

বনশ্রী ডলি / ১৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

দেশের বিউটি ও লাইফস্টাইল শিল্পে এক সংগ্রামী নারীর গল্পগাথা,
তাসলিমা চৌধুরী কনা আলম,
ব্যবস্থাপনা পরিচালক,
ওম্যান্স ওয়ার্ল্ড লিমিটেড

বাংলাদেশের বিউটি ও লাইফস্টাইল ইন্ডাস্ট্রি আজ যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন সাহসী ও দূরদর্শী নারীর নিরলস পরিশ্রম। তাদের মধ্যে অন্যতম তাসলিমা চৌধুরী। যিনি শুভার্থীদের মাঝে কনা আলম নামেই পরিচিত। নব্বই দশকের শুরুতে যখন বিউটি পার্লার ধারণাটি সামাজিকভাবে খুব একটা সহজভাবে গ্রহণ করা হতো না, সেই প্রতিকূল সময়ে মাত্র পাঁচ কর্মী নিয়ে বনানীতে যাত্রা শুরু হয়েছিল তার। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ওম্যান্স ওয়ার্ল্ড’ (Woman’s World) আজ বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বিউটি সেলুন চেইন, যার শাখা বিস্তৃত ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকাগুলোয়। কনা আলম কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী নন, তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টাও। এই সেবাকে তিনি আন্তর্জাতিক মানের ‘এসথেটিক ক্লিনিক’ এবং স্কিন কেয়ার চিকিৎসায় প্রসারিত করেছেন। তার হাত ধরে স্বাবলম্বী হয়েছেন শত শত পিছিয়ে থাকা নারী, বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারো সম্প্রদায়ের সদস্যরা। দীর্ঘ চার দশকের অভিজ্ঞতা, সততা এবং কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৬ সালে ‘হু ইজ হু বাংলাদেশ’ অ্যাওয়ার্ডে সেরা নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ভূষিত হন। ইতোমধ্যে কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননাস্বরূপ তিনি পেয়েছেন বিভিন্ন পুরষ্কার; এর মধ্যে বেগম রোকেয়া শাইনিং পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড-২০০৬, প্রেস ক্লাব প্রদত্ত সফল নারী উদ্যোক্তা অ্যাওয়ার্ড-২০০৮ এবং মাদার তেরেসা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড- ২০০৮ উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট-এর স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। বর্তমানে তার সুযোগ্য কন্যা ফারনাজ আলমের হাত ধরে ওম্যান্স ওয়ার্ল্ড এখন আন্তর্জাতিক মেকআপ লাইন ‘Kona By Farnaz Alam’-এর মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
বাংলাদেশের রূপচর্চা ও জীবনধারা (Beauty & Lifestyle) ইন্ডাস্ট্রিকে যারা শূন্য থেকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, তাদের নাম নিতে গেলে সবার আগে উচ্চারিত হয় তাসলিমা চৌধুরী কনা আলম-এর নাম। তিনি ইংল্যান্ডের International Therapy Examination Council (I.T.E.C)  থেকে Aesthetician ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। তাছাড়া থাইল্যান্ডের Gedvedi Gandhini, সিঙ্গাপুরের  YWCA ভারতের W.W. International, পাকিস্তানের New Look এবং আরও অনেক স্থান থেকে বিউটি থেরাপি ও হেয়ার কেয়ার বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। তার এই অব্যাহত প্রশিক্ষণের ধারা তাকে বিভিন্ন দেশে নানা প্রকার সদ্য উদ্ভাবিত বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ সফরের সময়ে তিনি অনেক আন্তর্জাতিক মেলা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে তার এ বিষয়ে জ্ঞানের পরিধি অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তার কন্যা ফারনাজ আলমের হাত ধরে ওম্যান্স ওয়ার্ল্ড এগিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মেকআপ লাইন Kona By Farnaz Alam-এর মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কনা আলম তার জীবনের দর্শন, আগামীর পরিকল্পনা এবং নারী উদ্যোক্তাদের বর্তমান সংকট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

অর্থকণ্ঠ: শুরুর প্রশ্নটি এভাবে করতে চাইÑ আপনার শৈশব এবং বেড়ে ওঠার গল্প দিয়ে। শুনেছি আপনার জন্ম ৩১ আগস্ট। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন কবে দেখেছেন, না-কি এটি সময়ের প্রয়োজনে গড়ে উঠেছে? কীভাবে শুরুটা করলেন?তাসলিমা চৌধুরী কনা আলম: আমার শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরের বনানী ও গুলশান এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই আমি ভীষণ সৌন্দর্যপ্রিয় ছিলাম। আঁকাআঁকি করতে খুব পছন্দ করতাম। আমার বাবা ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। পাশাপাশি আমার বাবা-চাচারা সবাই ব্যবসায়ী ছিলেন। সে-কারণে ছোটবেলা থেকেই আমার অবচেতন মনে একটি ব্যবসায়িক মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। ১৯৮২ সালে আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমি কেবল গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছি। আমার স্বামী খায়রুল আলম পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, (FCA)। ১৯৮৫ সালে আমার ছেলে ফাহদ আলম রাদ-এর জন্ম এবং ১৯৯০ সালে আমার মেয়ে ফারনাজ আলম-এর জন্ম হয়। সংসার, সন্তান সামলানোর পাশাপাশি মনে হতো নিজের জন্য কিছু একটা করা প্রয়োজন। উপায় খুঁজতাম কী করা যায়।
আমি সবসময়ই চারপাশের সবকিছুতে সৌন্দর্য খুঁজতাম। ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা ঘর সাজানো দেখলে খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করতাম। মনে হতোÑ এখানে এই জিনিসটি দিলে হয়তো আরও সুন্দর লাগত। বিয়ের পর যখন টেলিভিশন দেখতাম বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতাম, তখন লক্ষ করতাম মেয়েরা কীভাবে সাজছে, কীভাবে পোশাক পরছে। তখন থেকেই আমার মাথায় ঘুরত যে সাজটা এমন না হয়ে অন্যরকম হলে হয়তো আরও ভালো লাগত। কাউকে দেখলে আমার পরামর্শ দিতে ইচ্ছে করত যে, তোমাকে এভাবে সাজলে আরও বেশি মানাবে। এমন ভাবনাগুলো আমার ভেতরে সবসময়ই চলত।

বিউটি পার্লারে গিয়েও আমি একই জিনিস দেখতাম। মনে হতো তারা যদি আরেকটু যত্ন নিয়ে বা অন্যভাবে কাজ করত, তবে সৌন্দর্য আরও ফুটে উঠত। আমার কাছে মনে হতো বিউটিফিকেশন মানে কেবল মুখ বা চুল সাজানো নয়, এটি একটি সামগ্রিক যত্নের বিষয়। সেই সময় পারফেক্ট সাজানোর বদলে অনেক ক্ষেত্রে সাজানোর নামে ‘ধোঁকা’ দেওয়া হতো বলে আমার মনে হতো। এই ভাবনা থেকে আমি ঠিক করলাম এই সেক্টর নিয়ে কাজ করব।
এরপর আমি প্রশিক্ষণের খোঁজ শুরু করি। দিল্লিতে ভারতের বিখ্যাত বিউটি বিশেষজ্ঞ শেহনাজ হোসেনের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, অন্তত ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তখন আমার ছেলে খুব ছোট। মা এবং স্বামী দুজনে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু আমার প্রবল আগ্রহ দেখে তারা সমর্থন করলেন। দিল্লিতে আমার নানির বোন থাকতেন, তার আশ্রয়ে ছেলেকে নিয়ে আমি দিল্লি চলে গেলাম। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত, প্রায় দুই বছর আমি সেখানে প্রশিক্ষণ এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করি। ১৯৯০ সালে ঢাকায় ফিরে ১৯৯১ সালে বনানীতে ছোট একটা জায়গায় মাত্র পাঁচ কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এভাবেই শখের বসে শুরু হওয়া ভাবনাটি একটি পেশাদার উদ্যোগে রূপ নেয়।

অর্থকণ্ঠ: একজন নারী হিসেবে ব্যবসা শুরু করার সময় আপনাকে কী ধরনের সামাজিক বা পারিবারিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল? কীভাবে তা মোকাবিলা করেছেন?
কনা আলম: চ্যালেঞ্জ তো ছিলই। আমি ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে হওয়ায় আমার মানসিকতা স্বাধীন ছিল। বাবা আমাদের চার বোনকে সবসময় কিছু করার জন্য উৎসাহিত করতেন। কিন্তু মা ভাবতেন আমি পারব কি-না। তবে আমি ছিলাম ভীষণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই সময়ে বিউটি পার্লার ব্যবসাকে সমাজ খুব একটা ভালো চোখে দেখত না। আমার আত্মীয়-স্বজন, এমনকি শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরও এতে কিছুটা আপত্তি ছিল। অনেকে বলতেন, ‘চাকরি বা অন্য ব্যবসা করতে পারতে, পার্লারের ব্যবসা কেন? তখন এসব শুনেও আমি নীরব থেকেছি, মন খারাপ হলেও দমে যাইনি। আমি চেয়েছি, মুখে কিছু না বলে কাজ করে প্রমাণ করতে; সেটাই করেছি।
অনেকে সরাসরি কিছু না বললেও তাদের আচরণে অপছন্দ প্রকাশ পেত। মা বলতেন, ‘তোমার বাবা তো অভাব রাখেননি, তোমার স্বামীও প্রতিষ্ঠিত, তবে কেন এই কষ্ট করা?’ আমি তাদের কোনো কথারই পাল্টা জবাব দিতাম না। আমি জানতাম, আমি কোনো অন্যায় বা অসততা করছি না। আমি মনে মনে ভাবতাম, আমার কাজ দিয়েই আমি সব সমালোচনার জবাব দেব। আমি শান্ত ছিলাম এবং ধৈর্য ধরেছিলাম।
আমি বিশ্বাস করতাম, একদিন সবাই বুঝবে এ পেশাটি সম্মানজনক। আজ দেখুন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সবাই এখন এই পেশাকে শ্রদ্ধা করে। আমি তখন যদি মানুষের কথায় দমে যেতাম, তবে আজকের ‘কনা আলম’ তৈরি হতো না। আমি শুধু নিজেকেই নয়, আমার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছি।

অর্থকণ্ঠ: আপনার প্রতিষ্ঠানের ধারণা বা আইডিয়াটি কীভাবে এলো? শুরুর দিনগুলোয় আপনার মূলধন কী ছিল?
কনা আলম: আমি চেয়েছিলাম এমন একটি জায়গা তৈরি করতে, যেখানে মেয়েরা কেবল বাহ্যিক রূপচর্চা করতে আসবে না; বরং তারা যেন একটি প্রশান্তির পরিবেশ পায়। আমি নাম দিলাম ‘ওম্যান্স ওয়ার্ল্ড’। এর অর্থ হলোÑ নারীর নিজস্ব একটি জগত। এখানে সে ত্বক ও চুলের যতœ নেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে পরিস্ফুটিত করার অনুপ্রেরণা পাবে। আমি কর্মীদের সবসময় বলতাম, ‘তোমাদের এই ছোট কাজগুলোই একসময় তোমাদের স্বাবলম্বী করে তুলবে।’
মূলধনের কথা যদি বলি, শুরুর দিকে মূলধন খুব বেশি ছিল না। আমার বাবার ব্যবসায় আমাদের চার বোনের শেয়ার ছিল, সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আমি শুরু করি। এছাড়া আমার স্বামীও আমাকে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা করেছিলেন, যখন আমি গুলশানে একটি শপিংমলে ৪০০০ স্কয়ার ফুটের দোকান কিনি। প্রথম তিন মাসের মাথায় আমার আয় দেখে আমার স্বামীও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে আমার কর্মীর সংখ্যা ৫ থেকে ২০ জনে উন্নীত হয়। এরপর আর আমাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

অর্থকণ্ঠ: বর্তমান বাজারে আপনার ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানটি ঠিক কোন অবস্থানে রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
কনা আলম: ওম্যান্স ওয়ার্ল্ড এখন কেবল একটি পার্লার নয়, এটি একটি আস্থার ব্র্যান্ড। বর্তমানে ঢাকা শহরে আমাদের অনেক শাখা রয়েছে (গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, মিরপুর, কাকরাইল)। এ ব্র্যান্ডটি আমি আমার সন্তানের মতো করে গড়ে তুলেছি। এখন আমার মেয়ে ফারনাজ আলম (ডার্মাটোলজিস্ট) আমার সাথে যুক্ত হয়েছে। সে আসার পর প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিকতার পরশ দিয়েছে। আমরা এখন শুধু সেবা দিই না, নিজস্ব পণ্যও উৎপাদন করছি।
আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা হলোÑ আমাদের ক্লায়েন্টরা। গত ৩৫ বছর ধরে আমাদের কাছে আসছেন এমন পুরোনো ক্লায়েন্টও অনেক আছেন। যারা একসময় আমার কাছে কনে সেজেছিলেন, এখন তাদের মেয়েরাও আমাদের কাছে আসে। এটিই আমাদের ব্র্যান্ডের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এছাড়া ফারনাজ আমার নামে আন্তর্জাতিক মেকআপ লাইন ‘কড়হধ ঈড়ংসবঃরপং’ চালু করেছে, যা নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইক পর্যন্ত পৌঁছেছে।

অর্থকণ্ঠ: আপনার কাজের বিশেষত্ব বা ‘ইউনিক সেলিং পয়েন্ট’ (USP) কী, যা আপনাকে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে রেখেছে?
কনা আলম: ওম্যান্স ওয়ার্ল্ডের প্রথম বিশেষত্ব হলো সেবা ও কাজে সততা এবং আন্তরিকতা। আমি শুরু থেকে সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স এবং ভ্যাট প্রদান করি। ২০২৬ সালে আমাকে যখন ‘হু ইজ হু’ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়, তখন তারা আমার ট্যাক্স প্রোফাইল দেখে খুব প্রশংসা করেছে।
দ্বিতীয়ত; আমাদের সেবায় ‘পার্সোনাল টাচ’ বা স্পর্শের ওপর আমরা খুব গুরুত্ব দিই। বিউটি ইন্ডাস্ট্রি খুব স্পর্শকাতর জায়গা। আমি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিই যেন তারা হাসি দিয়ে ক্লায়েন্টকে বরণ করে। এমনভাবে সার্ভিস দেয় যেন ক্লায়েন্ট আস্থাবোধ করেন। অনেক ক্লায়েন্ট আমাদের সাথে তাদের ব্যক্তিগত দুঃখ-সুখের কথা শেয়ার করে, আমরা তা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে শুনি। এটি একটি আস্থার সম্পর্ক।
তৃতীয়ত; আমাদের হারবাল এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়। আমরা ভারতে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজস্ব উপায়ে হারবাল অয়েল ও স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট তৈরি করি। এছাড়া ফারনাজের উদ্যোগে আমরা এখন ‘এসথেটিক ক্লিনিক’ সেবা দিচ্ছি, যেখানে ডার্মাটোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট এবং কসমেটিক সার্জারির মতো উন্নত সেবা পাওয়া যায়। আমরা প্রোডাক্টের মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করি না।

অর্থকণ্ঠ: আপনার এই উদ্যোগে সরাসরি কতজন কর্মসংস্থান পেয়েছেন এবং আপনি কীভাবে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন?
কনা আলম: মাত্র পাঁচজন নিয়ে শুরু করলেও, বর্তমানে আমাদের ৩০০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ হলো পিছিয়ে পড়া নারী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (যেমনÑ গারো) সদস্য। আমি কেবল তাদের নিয়োগ দিইনি, তাদের জন্য আবাসন এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছি। উপরন্তু আমাদের এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১ হাজারের অধিক কর্মী এই পেশায় কাজ করছেন।
আমরা নিয়মিত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। নতুন প্রযুক্তি বা নতুন কোনো মেকআপ ট্রেন্ড এলে আমি নিজে বা ফারনাজ তাদের হাতে-কলমে শেখাই। আমাদের অনেক কর্মী এখান থেকে কাজ শিখে আজ নিজেরাই ছোট ছোট সেলুন দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

অর্থকণ্ঠ: বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন নারী উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা কোনটিÑ আর্থিক সহযোগিতা, না-কি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি?
কনা আলম: বর্তমান সময়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেকখানি ইতিবাচক হয়েছে। এখন মেয়েরা সব সেক্টরেই কাজ করছে। তবে আমার মতে, সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলোÑ আর্থিক সহযোগিতা। আমাদের সমাজে মেয়েদের হাতে জমানো টাকা খুব কম থাকে। বিয়ের আগে বা পরে তারা নিজের জন্য পুঁজি গড়তে পারে না। ফলে যখন তারা কোনো ব্যবসা শুরু করতে চায়, তখন অর্থের জোগানে গিয়ে তারা পিছিয়ে পড়ে। সরকার যদি সহজ শর্তে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ বা সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা করে, তবে এই বাধা দূর করা সম্ভব।

অর্থকণ্ঠ: আপনি কি মনে করেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ই-কমার্স বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য গেম-চেইঞ্জার হিসেবে কাজ করেছে?
কনা আলম: অবশ্যই! বিশেষ করে করোনার সময় থেকে ই-কমার্স আমাদের দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরে বসে অনেক মেয়ে এখন উদ্যোক্তা হয়ে উঠছে। আমাদের ওম্যান্স ওয়ার্ল্ড এবং কনা কসমেটিকসও এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দারুণ সক্রিয়। ই-কমার্স ছাড়া এখনকার দিনে ব্যবসা চিন্তা করাই কঠিন। তবে এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি থাকা প্রয়োজন, যাতে ভোক্তারা প্রতারিত না হন।

অর্থকণ্ঠ: আগামী পাঁচ বছরে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানকে কোথায় দেখতে চান? কোনো আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে কি?
কনা আলম: আমার স্বপ্ন অনেক বড়। আমি চাই আগামী পাঁচ বছরে ‘Kona Cosmetics’ যেন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, যেমন- ম্যাক (MAC) বা চ্যানেল (Chanel)-এর পাশাপাশি বিশ্বের বড় শপিং মলগুলোয় জায়গা করে নেয়। দুবাই, লন্ডন বা ইউএসএ-র মতো দেশের নামি শোরুমগুলোয় (যেমনÑ সেফোরা) বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে কনা কসমেটিকস থাকবেÑ এটিই আমার এবং ফারনাজের লক্ষ্য। এছাড়া আমরা বিউটি ট্রেনিং অ্যাকাডেমিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই, যাতে দেশের বাইরেও আমরা দক্ষ জনবল পাঠাতে পারি।

অর্থকণ্ঠ: নতুন প্রজন্মের নারীরা যারা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
কনা আলম: নতুনদের জন্য আমার পরামর্শ হলোÑ চিন্তাটা সবসময় বড় রাখতে হবে। শুরুটা ছোট হলেও লক্ষ্য থাকতে হবে আকাশছোঁয়া।
দক্ষতা অর্জন: এই পেশায় দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। আগে নিজে শিখুন, তারপর শুরু করুন।
সততা ও ধৈর্য: ব্যবসায় সততা থাকতে হবে। রাতারাতি বড় হওয়ার চিন্তা না করে ধৈর্য ধরতে হবে।
আচরণ: ক্লায়েন্টের সাথে হাসি মুখে কথা বলা এবং ভালো ব্যবহার অর্ধেক সফলতার চাবিকাঠি।
মানের নিশ্চয়তা: কম দামি পণ্য ব্যবহার করে বেশি লাভের চিন্তা করা উচিত না। মান ভালো হলে ক্লায়েন্ট নিজে থেকেই বারবার আসবে। সবশেষে বলব, হার মানা যাবে না। চড়াই-উতরাই আসবেই; কিন্তু লক্ষ্যে স্থির থাকলে জয় নিশ্চিত।

অর্থকণ্ঠ: সরকারের কাছে এই শিল্পের জন্য আপনার বিশেষ কোনো দাবি বা সুপারিশ আছে কি?
কনা আলম: আমার সরকারের কাছে সবিনয় আবেদনÑ বিউটি ইন্ডাস্ট্রিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হোক। আমাদের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন। বিশেষ করেÑ
জামানতবিহীন ঋণ: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা।
ভ্যাট ও ট্যাক্স রেট কমানো: বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অনেক ছোট উদ্যোক্তার জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এটি কমিয়ে ৫ শতাংশে আনলে অনেকেই উৎসাহিত হবে।
কাঁচামাল আমদানি: রূপচর্চার সামগ্রী তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো উচিত, যাতে আমরা দেশেই আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারি।
প্রক্রিয়া সহজীকরণ: ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত হয়। একজন সাধারণ নারীও যেন সহজে আবেদন করতে পারেন। বিউটি ইন্ডাস্ট্রি কেবল সাজগোজের জায়গা নয়, এটি বিশাল এক অর্থনৈতিক খাত। সরকার যদি এখানে সহযোগিতা করে, তবে লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থান হবে এবং দেশ আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।

অর্থকণ্ঠ: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমান সরকারি সুযোগ-সুবিধা (যেমন: এসএমই লোন) কি পর্যাপ্ত বলে আপনি মনে করেন?
কনা আলম: বিউটি ইন্ডাস্ট্রিকে কেবল মেকআপ বা সাজসজ্জার গ-িতে আটকে না রেখে একে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শিল্প’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। সরকারের কাছে আমার প্রধান প্রত্যাশা হলো এই খাতের জন্য একটি সময়োপযোগী ও পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা। আর্থিক সহযোগিতার কথা যদি বলি, আমি মনে করি এটি অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যেন সহজলভ্য হয়। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণ এবং কর (Vat/Tax) রেয়াতের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
আরেকটি বড় বিষয় হলো কাঁচামাল। আমরা যখন রূপচর্চার প্রসাধনসামগ্রী দেশে তৈরি করতে চাই, তখন কাঁচামাল আমদানিতে চড়া শুল্কের মুখে পড়তে হয়। এই শুল্ক কমানো গেলে আমরা দেশেই আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারব। ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা যেমন বাঁচবে, তেমনি ভোক্তারাও সুলভ মূল্যে ভালো পণ্য পাবে।

অর্থকণ্ঠ: ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আরও সহজ করতে সরকারের কাছে আপনার বিশেষ কোনো দাবি আছে কি?
কনা আলম: ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ, দ্রুত এবং সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করা দরকার। বর্তমানে অনেক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পোহাতে হয়, যা একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য নিরুৎসাহজনক। বিশেষ করে গ্রামের বা মফস্বলের একজন সাধারণ নারী যখন উদ্যোক্তা হতে চান, তখন তিনি এই আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে থমকে যান। সরকার যদি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মতো কোনো ব্যবস্থা রাখে, তবে খুব ভালো হয়। নীতিমালার ক্ষেত্রে আমি বলবÑ সবার তো আমার মতো পারিবারিক বা স্বামী-বাবার আর্থিক সহায়তা থাকে না। অনেকে খুব ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করেন। তাদের জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। এই ভ্যাটের হারটা কমিয়ে দিলে ছোট উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন। তারা স্বাবলম্বী হলে দিনশেষে রাষ্ট্রই লাভবান হবে, কারণ তারা তখন নিয়মিত কর দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। ট্রেড লাইসেন্স বা ট্যাক্স দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত; কিন্তু তার প্রক্রিয়াটি হতে হবে পানির মতো সহজ।

অর্থকণ্ঠ: নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বিশেষ প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপনার মতামত কী?
কনা আলম: আমরা এখন ওম্যান্স ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি ‘কনা কসমেটিকস’ নামে নিজস্ব পণ্য বাজারজাত করছি। গর্ব করে বলতে পারি, আমি শুরু থেকে সরকারের প্রতিটি নিয়ম মেনে চলি এবং আয়ের ওপর ঠিকঠাক কর দিয়ে আসছি। হু ইজ হু অ্যাওয়ার্ডের সময় যখন আমার প্রোফাইল যাচাই করা হয়, তখন তারা আমার ট্যাক্স প্রদানের স্বচ্ছতা দেখে ভীষণ প্রশংসা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, সততার সঙ্গে ব্যবসা করেও বড় হওয়া যায়। সরকারের এখন আমাকে সিআইপি/ ভিআইপি সুবিধা দেওয়া উচিত, এ নিয়ে আমার স্বামী মাঝে মাঝে কৌতুক করে আমাকে ‘ভিআইপি’ বলে ডাকেন। আমার ট্যাক্স ফাইল আপডেটের কাজে তার অবদান অনেক।
আমি মনে করি, সরকার আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের লোন দেয়, কারণ তারা প্রমাণ পেয়েছে যে আমরা ঋণের সঠিক ব্যবহার করি এবং তা যথাসময়ে পরিশোধ করি। এ আস্থাটা ধরে রাখা জরুরি। আমরা কেবল ব্যবসা করি না, শত শত নারীর কর্মসংস্থান তৈরি করি। দেশ ও সমাজের উন্নতিতে অবদান রাখি। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যদি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডগুলো বিশ্ববাজারে অন্য দেশের সাথে পাল্লা দিতে পারবে।

অর্থকণ্ঠ: অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ আরও জোরালো করতে সরকারের নীতিমালার কোন জায়গাটিতে দ্রুত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
কনা আলম: আর্থিক ও নীতিগত সহায়তার জায়গাটিতে দ্রুত পরিবর্তন আনা দরকার। নারীরা যেন কোনো দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে যে জটিল শর্ত থাকে, সেগুলো শিথিল করা প্রয়োজন। এছাড়া কারিগরি প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো দরকার। সরকার যদি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিউটিফিকেশন ও উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলে, তবে তৃণমূল থেকে দক্ষ জনবল উঠে আসবে।

অর্থকণ্ঠ: একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার জীবনের মূলমন্ত্র বা ফিলোসফি কী?
কনা আলম: আমার জীবনের মূলমন্ত্র হলোÑ ‘নিজে কিছু করব এবং অন্যকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করব।’ আমি সবসময় বিশ্বাস করি, সততার বিকল্প নেই। মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি তাদের অন্তরের সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য। এই দীর্ঘ পথে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে, অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে; কিন্তু আমি দমে যাইনি। আমি পরিশ্রম করেছি এবং বড় স্বপ্ন দেখেছি। সততা, পরিশ্রম এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা জয় করা সম্ভব।

অর্থকণ্ঠ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
কনা আলম: আমার একটি বিশেষ স্বপ্ন আছে। যেসব মেয়ের বাবা-মা বা কোনো অভিভাবক নেই, যারা সমাজে একা, তাদের জন্য আমি একটি বিশেষ আশ্রয় ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। আমি একে ‘এতিমখানা’ বলতে চাই না; এটি হবে একটি লার্নিং ও লিভিং সেন্টার। রাজধানীর বাইরে বড় পরিসরে জায়গা নিয়ে একটি ভবন তৈরি করার পরিকল্পনা আছে আমার, যেখানে মেয়েরা থাকবে, পড়াশোনা করবে এবং কাজ শিখবে। সেখান থেকে তারা দক্ষ ও স্বাবলম্বী হয়ে বের হবে। এ ব্যাপারে সরকার যদি ঢাকার আশপাশে এক খ- জমি বরাদ্দ করে, তাহলে আমার এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি, ‘কনা কসমেটিকস’ ব্র্যান্ডটি আমি বিশ্বের বড় বড় আউটলেটে দেখতে চাই। দুবাই বা লন্ডনের শপিং মলে যখন মানুষ বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে এটি কিনবে, তখন সেটিই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। আমি রূপচর্চায় আরও আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই এবং এই শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য একটি বড় পরিসরে ‘প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি’ গড়ে তুলতে চাই।

অর্থকণ্ঠ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
কনা আলম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

‘অর্থকণ্ঠ’র পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক বনশ্রী ডলি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category