• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
Headline
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫ম গ্লোবাল বিজনেস সামিট ২০২৬ দেশের বিউটি ও লাইফস্টাইল শিল্পে এক সংগ্রামী নারীর গল্পগাথা -তাসলিমা চৌধুরী কনা আলম সাকিফ শামীম – ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএফবি গ্রুপকে সুগন্ধি ও ওডোর নিউট্রালাইজিং প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেখতে চাই -গোলাম ফারুক ভূঁইয়া বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি ঢাকার নতুন কমিটি গঠন মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে বিজিএমইএ এর নতুন পরিচালনা পর্ষদ বিজিএমইএ এর দায়িত্ব গ্রহন করেছেন টেকসই উন্নয়ন অর্জনে শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, গবেষণা ও নীতি প্রণয়ন জরুরি -অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন ডা. সিনথিয়া আলম ত্বকচর্চার নতুন দিগন্তের পথপ্রদর্শক কানাডায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করছি -আরিফুর রহমান, P.Eng. ৩৯তম ফোবানা সম্মেলনের প্রচারে নিউইয়র্ক সফরে হোস্ট কমিটি

মহল্লার সবগুলো বাড়ির ছাদ ঝলমল করতো রোজ বিকেলে-ফেরদৌস হাসান 

Reporter Name / ২১৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২২

ফেরদৌস হাসান 

 

আমরা তখন নাইন টেনে পড়তাম। মহল্লার সবগুলো বাড়ির ছাদ ঝলমল করতো রোজ বিকেলে।  আমাদের বয়েসি মেয়েরা ছাদে উঠত। বাতাস খেতো। কেউ কেউ মনযোগ দিয়ে আমাদের দেখতো। আমরা ফুটবল খেলতাম মাঠে।  আমরাও দেখতাম  তাদেরকে।
বিশেষ কাউকে দেখতে গিয়ে  বল পায়ে ছুটতে ছুটতে কিক মারতে ভুলে যেতাম। আমি গোল মিস করায় যে কষ্ট করে বলটা আমাকে পাস দিয়েছিল সে গালি দিত। আমি লজ্জা পেতাম। মনে মনে কান ধরতাম আর তাকাবো না। কিন্তু আবার চোখ চলে যেত সেই ছাদে দাঁড়ানো মেয়েটির  দিকে। মানে আবার গোল মিস! আবার গালাগালি!
তখন উঁচু উঁচু দালান কোঠা ছিল না। ছিল খেলার মাঠ। মেয়েদের দখলে ছিল বাড়ির ছাদ। বিকেলে মা ঘুমুলে তাদের ছিল ছাদে ওঠার সংস্কৃতি।
তবে তখন সব কিছু ছিল দল ধরে। ভিড় করে। আমরা একা একা কোনো কিছু চিন্তা করতে পারতাম না। এখন যেমন একজন ফোন নিয়ে একা একা সময় কাটায়। গেম খেলে। দরজা বন্ধ করে সিনেমা দেখে। অন লাইনের পিৎজা খায়। আমরা ৪/৫ জনের নিচে কিছু চিন্তা করতে পারতাম না। আমরা তখন পিৎজা চোখে দেখিনি তবে দেখলে একটাই ১২ টুকরা করে ১২জন বন্ধু খেতাম। সেই খাওয়ায় যে  কী আনন্দ এটা বোঝানোর সাধ্য আমার নেই! সেই মাঠ থেকে এক ঝলক  তাকে ছাদে দাঁড়াতে দেখায় যে কী রোমাঞ্চ এটাও বোঝাতে পারবো না!

আমি তরুণ তরুণীদের এখন হাত ধরে হাঁটতে দেখি। একসাথে সিগারেটও খেতে দেখি। তখন সব কিছু সস্তা মনে হয়। কষ্ট হয়। মেয়ে বন্ধু বলে তখন কিছু ছিল না। তবে প্রেমিকা ছিল।
আমাদের বন্ধুদের মধ্যে দু-একজনের ভাগ্যে প্রেমও জুটেছিল। আমরা তাদেরকে ইর্ষা করিনি। ওদের জুটি দেখে আনন্দ পেয়েছি। আমরা তাদেরকে খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছি,ওরা দু-টাকার চিনেবাদম খেয়ে কী করে দুপুর পার করে! কাঠফাটা রোদে কী করে নদীর পাড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে! কী করে একরাতে একদিস্তা কাগজ ভরে প্রেমপত্র লিখে! আমার না ওদের কে তখন সুপারম্যান আর ওম্যান মনে হতো! মনে হতো প্রেমের মতো এতবড়ো এডুকেশন দুনিয়ায় নেই। অতবড় শক্তি!
আমি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ছেলেটাকে ভালো হতে দেখেছি প্রেমে পড়ে। সবচাইতে অমার্জিত অহংকারী মেয়েটিকে মার্জিত হতে দেখেছি। সুন্দর হতে দেখেছি।
তাই আমি চাই আমার সন্তানরা যেন সেই পুলক,সেই রোমাঞ্চের সন্ধান পায়। ভিডিও গেমের হাতি ঘোড়া মারার চেয়ে বাইরে গিয়ে গায়ের ঘাম ঝরান ভালো। চুরি করে গাঁজা খাওয়ার চেয়ে প্রেম করা আরও ভালো।
বিকেলে মাঠে যাও। গোধূলী আলোয় বাতাসে যার চুল ভাসে তাকে খুঁজে নাও…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category